বুধবার, ০৪ অগাস্ট ২০২১, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

হুমায়ূন পাঠক হৃদয়ে বেঁচে থাকুক অনন্তকাল

সুলতান আইয়ূবী
  • Update Time : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ১০০ Time View

সুলতান আফজাল আইয়ূবী

আমার এক ফুফাত ভাই ঢাকার মোহাম্মদ পুর এক মাদ্রাসায় হিফজ পড়তো, বর্তমানে সে কওমী মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করছে। তার এক শিক্ষক,বরণ্যে
আলেম, উনি একদিন রাত্রে কোথাও হতে মাহফিল করে আসছেন।ঘটনাক্রমে পুলিশ চেকপোস্টে তল্লাশী চলছে, তো হুজুরকে দেখে তো স্বভাবতই পুলিশদের অন্যরকম ধারণা হয়।

হুজুরের গাড়ীতে তল্লাশীর জন্য আসলো এসে দেখে
গাড়ীতে হুমায়ুন আহমেদের একটি বই।এটি দেখেই পুলিশ আর তল্লাশী না করেই ছেড়ে দিলেন।চিন্তা করেন হুমায়ুন স্যার কতটুকু মন জয় করেছিলেন পাঠকদের। সমকালীন বাংলা সাহিত্যের জননন্দিত লেখক এই হুমায়ূন আহমেদ ২০১২ আজকের এইদিনে চির নিদ্রায় শায়িত হন। তরুণসমাজে জন প্রিয়তার তুঙ্গে এই সাহিত্যিক মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্যে তুলে ধরে পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই।

কিন্তু রেখে গেছেন তার সৃষ্টি সম্ভার। উপন্যাস, নাটক,শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প- সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার উজ্জ্বল স্বাক্ষর। উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোও আলোচনার বিষয়। ‘হিমু’,মিসির আলী’ ‘শুভ্র’ ‘কোথাও কেউ নেই’ তরুণ- তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠেছে ভীষণ জনপ্রিয়।কোথাও কেউ নেই এর মূল চরিত্র বাকের ভাইয়ের জন্য রাজপথে মানুষ নেমে এসেছেন।তাদের দাবী আদায়ের জন্য চলছে আন্দোলন। বাকের ভাইকে যেন ফাঁসির দড়িতে না ঝুলানো হয়।হ্যাঁ এটিই সত্য, কোন সিনেমার গল্প নয়।

তবে ফাঁসিটি দেওয়া হবে সিনেমায়। তবুও বাকের ভাইয়ের মত সুবোধ ব্যাক্তির ফাঁসি হবে এটি মেনে নিতে পারছিলেন না দর্শকবৃন্দ।যদিও এটি সিনেমার দৃশ্য।তাই লেখকের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন দর্শকরা যেন আগামী পর্বে এই চরিত্রে অন্য কোন দৃশ্য দেওয়া হয়। কতটুকু পাঠক মন জয় করলে বাস্তবে এরকম হওয়া সম্ভব। হুমায়ুন ছিলেন মধ্যবিত্ত মানুষের মনের গহীন কোনে। তার ঐতিহাসিক উপন্যাস নন্দিত নরকের মাধ্যমে প্রথম পরিচয়।রচনা করেছেন অসংখ্য বই।প্রকাশকরা তার পিছনে লাইন ধরে থাকতো। অটোগ্রাফের জন্য পাঠকরাও বই মেলায় ভিড় করতো।

তার জীবনের শেষাংশে তিনি ঐতিহাসিক এক উপন্যাস লিখেছেন বিশ্বনবী (সা:)এর জীবনী, সিরাত বিষয়ক গ্রন্থ “নবীজী”।এটি এখন তার স্ত্রী
মেহের আফরোজ শাওন “হুমায়ুন আহাম্মেদের অপ্রকাশিত লেখা”য় প্রকাশ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ একজন জেনারেল শিক্ষিত ব্যাক্তি,উনি কোন আলেম নন।তাই তার রচনাবালীর মধ্যে ধর্মীয় সাংঘর্ষিক কোন বিষয় থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তাই বলে ঢালাওভাবে তাকে নাস্তিক বলাটা চরম অন্যায়। একজন আল্লাহর অস্তিত্বে বিশ্বাসী আস্তিককে নাস্তিক বলা তার প্রতি চরম তোহমদ ছাড়া আর কিছুই নয়।অনেক জ্ঞানপাপীকে দেখা যায় কিছু না জেনেই হুমায়ূন আহমেদ এবং হুমায়ূন আজাদকে একত্রে মিলিয়ে ফেলে। মনে রাখবেন হুমায়ূন আজাদ ছিল স্ব-ঘোষিত নাস্তিক।

আজ হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যদিবস। তার প্রতি রইলো অজস্র ভালবাসা।তার মাগফিরাত কামনা করছি।

সুলতান আফজাল আইয়ূবী
কবি ও গণমাধ্যমকর্মী
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক, পাকুন্দিয়া প্রতিদিন

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
কারিগরি সহযোগিতায়: Ashraf Ali Sohan
www.ashrafalisohan.com