Pakundia Pratidin
ঢাকাবুধবার , ২৫ মে ২০২২
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃতি সন্তান
  5. জাতীয়
  6. জেলার সংবাদ
  7. তাজা খবর
  8. পাকুন্দিয়ার সংবাদ
  9. ফিচার
  10. রাজনীতি
  11. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘মৃত্যুক্ষুধা’ এক অদ্ভুত-সুন্দর বেদনা-জাগানো আখ্যান

প্রতিবেদক
পাকুন্দিয়া প্রতিদিন ডেস্ক
মে ২৫, ২০২২ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আকরামা আরিফ ইষা

উপন্যাসের পটভূমি কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কের এক বস্তি এলাকায় সৃষ্ট! নারী জীবনের দুর্বিসহ অন্ধকার সমাজের বাস্তব চিত্র কবি তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসে।নিম্ন বর্গের মানুষের দুঃখ বেদনার চিত্র এই উপন্যাস কে দিয়েছে আসল রূপ।তৎকালিন দারিদ্র্য, ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে সপরিবার মুসলিম থেকে খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহন করার বাস্তব প্রতিচ্ছবি দেখা যায় উপন্যাসটিতে। উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র রুবি আনসার নামক এক ছেলেকে ভালোবাসলেও সামাজিকতা মেনে নিতে গিয়ে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ হয়। রুবির বাবা বিয়ে দিয়ে দেয় অন্য ছেলের সাথে। উপন্যাসের এক পর্যায়ে রুবির স্বামী মারা গেলে তার জীবনে নেমে আসে সমাজের অন্ধ বিধি নিষেধ এবং সমাজের কঠিন বাস্তবিকতার ছায়া। এই সব প্রতিকূলতার মাঝেই উপন্যাসের ঘটনা প্রবাহ হতে থাকে।

‘মৃত্যুক্ষুধা’ উপন্যাসের একটি অনন্য সাধারণ চরিত্র মেজবৌ।মেজবৌ অত্যন্ত সুন্দর দেহে যেমন মনেও তেমনি। অত্যন্ত উদার হৃদয়, স্নেহপ্রবণ, সহানুভূতিশীল।দারিদ্র্যের দগ্ধ মরুতে সে যেন এক সুশীতল মরুদ্যান।দরিদ্র ঘরের রূপসী বিধবার প্রতি লালসা আর কামনার দৃষ্টি কটাক্ষ, হাতছানি চারদিকে।এসব থেকে নিজেকে অত্যন্ত কৌশলে বাঁচিয়ে রেখেছে। এ চরিত্রটি অপার সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছিল। তাঁর অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বহির্দ্বন্দ্ব উপন্যাসের উৎকর্ষকে অন্য মাত্রা দেবার সুযোগ দিয়েছিল।কিন্তু নজরুল সে পথে যান নি। যথেষ্ট কারণ ছাড়াই ঔপন্যাসিক মেজবৌকে ধর্মান্তর করালেন। সে ছেলেমেয়ের খাওয়া-পরার জন্য খ্রিষ্টান হলেন, তাদেরকে ফেলে রেখে চলে গেলেন অনেক দূরে- বরিশালে। আবার ছেলের অসুখের সংবাদ জেনে ফিরে এলেন বাড়িতে।তবে বাদ সাধে সন্তানেরা। তার ছেলেটি মারা যায়। মেজ-বৌকে ফিরে আসতে হয়
বস্তিজীবনে। কিন্তু মেজ-বৌ মিশনারী মেম-সাহেবদের বহু অনুরোধেও আর ফিরে যায়নি, আবার তওবা করে মুসলমানও হয়নি।

উপন্যাসের দ্বিতীয় অংশের শুরু হয় আনসার-রুবি প্রসঙ্গে। সমাজকর্মী, দেশপ্রেমিক, আত্মত্যাগী ও সংসার-বিরাগী আনসার এসে আশ্রয় নিল লতিফা ওরফে বুচির বাসায়।লতিফার স্বামী স্থানীয় কোর্টের নাজির। পরে কৃষ্ণনগরের জেলা-ম্যাজিস্ট্রেটের তরুণী কন্যা সদ্য-বিধবা রুবির সঙ্গে শৈশব প্রণয়ের স্মৃতি আনসারের মনে উদয় হয়।যদিও রুবি-আনসারের পুনরায় সাক্ষাৎ ঘটেছে উপন্যাসের শেষাংশে। মাঝখানে কয়েক বছর দু’জনের সাক্ষাৎ হয়নি।কারণ রুবির অমতে তার বিয়ে হয়েছিল অর্থলোভী এক যুবকের সঙ্গে।তাদের সংসার টিকে ছিল মাত্র একমাস।

বাইরের সাজসজ্জা ও আচরণ রুবির বিধবাসুলভ হলেও মনে প্রাণে সে আনসারকেই স্বামী বলে মানে। আনসার রাজবন্দী হয়ে রেঙ্গুনে চলে যায়, সেখানে ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে সুস’ হবার আশায় ওয়ালটেয়ারে যায়। রুবি ওই সংবাদ শোনামাত্রই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পথে পা বাড়াতে দ্বিধা করে না।আনসারকে রোগমুক্ত করতে রুবি অক্লান্ত পরিশ্রম করে কিন’ শেষ পর্যন্ত তাকে নিরাময় করতে অসমর্থ হয় এবং আনসার মারা যায়।এদিকে আনসারকে সেবাযত্নের ফলে একই ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে রুবি মারা যায়।

নজরুল যে ক’টি উপন্যাস রচনা করেছেন, তার মধ্যে শিল্পাঙ্গিক ও জীবনবোধের সফলতায় মৃত্যুক্ষুধা শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। পশ্চিমবঙ্গে কৃষ্ণনগরের চাঁদ সড়কের নিচুশ্রেণীর দরিদ্র হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিস্টান সম্প্রাদায়ের দারিদ্র্য ও দুঃখভরা জীবন নিয়ে উপন্যাসের কাহিনী গড়ে উঠেছে। তাদের একদিকে মৃত্যু আর একদিকে ক্ষুধা। সেখান থেকেই উপন্যাসের নামকরণ মৃত্যুক্ষুধা।

বই : মৃত্যুক্ষুধা
লেখক:কাজী নজরুল ইসলাম
ধরণ:উপন্যাস
পৃষ্ঠা:৮০
প্রথম প্রকাশ:১৯৯১
নিউজ প্রিন্ট

শিক্ষার্থী : গুরুদয়াল সরকারি কলেজ

error: Content is protected !!