রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

বাংলা নববর্ষে আমাদের করণীয়

সুলতান আফজাল আইয়ূবী
  • Update Time : বুধবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ২৫ Time View

১৪ ই এপ্রিল,পহেলা বৈশাখ, বাংলা পঞ্জিকার প্রথম দিন বা নববর্ষ।এই দিনটিকে বাঙ্গালি জাতি মহাউৎসবে পালন করে।সাথে শরিক হয় প্রতিবেশী আসাম, ত্রিপুরার বাঙ্গালিরাও।বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার উপর চিন্তা করে মোঘল সম্রাট জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ আকবরের নির্দেশে বিখ্যাত জোতিবির্জ্ঞানী ফতেহ উল্লাহ সিরাজি ১৫৮৪ সনের ১১ ই মার্চ বাংলা সনের সূচনা করেন।কিন্তু সম্রাটের সিংহাসনে আরোহনের দিনটিকে স্মৃতিময় করে রাখতে সেই দিন থেকে অর্থাৎ ১৫৫৬ সালের ১১ ই এপ্রিল মতান্তরে ৫ ই নভেম্বর থেকে কার্যকর হয়।প্রথমে এর নাম ছিল ফসলি সন অতঃপর বঙ্গাব্দ বা বাংলা নববর্ষ নামে পরিচিতি লাভ করে।
এই দিনের বিশেষ আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা, যা প্রতিষ্টালগ্নে ছিল না।তখন চৈত্র মাসের শেষ দিনে সকল খাজনা,লেনদেন পরিশোধ করতো। অতঃপর ভূমির মালিকরা তাদেরকে মিষ্টি দ্রব্য দ্বারা আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করতো।
দোকানীরা এই দিনে আয়োজন করতো
হালখাতার।১৯৬৭ সনে প্রথম ঘটা করে এই উৎসব পালন করা হয়।অনেকেই বছরে শুধু এই দিনে বাঙ্গালি সাজতে চায়।পান্তা ইলিশ খেয়ে সারাদিন ব্যাপি বিভিন্ন নাচ গান, উৎসব, শোভাযাত্রা,ও ইংলিশ, হিন্দি ইত্যাদি গান গেয়ে এই দিনটিকে উদযাপন করে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথেই ছায়ানটের শিল্পীরা রমনার বটমূলে গান গেয়ে এই দিনটিকে উদযাপন করে। স্থানটির নাম যদিও বটমূল বলা হয় কিন্তু ছায়ানটের মঞ্চ তৈরী হয় বটমূলে নয়,সেটি হলো অশ্বথো গাছের মূলে।এই দিনের অন্যতম একটি আকর্ষন হলো বিভিন্ন প্রাণীর মুখোশ পরে মঙ্গল শোভযাত্রা।যা ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হয়।এই উৎসবে বিভিন্ন সময় অনেকের সম্ভমহানীর মত অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।নির্যাতনের শিকার হন অনেক মা,বোন।যা সুস্থ মস্তিকের বিবেকবান একজন মানুষ কখনও মেনে নিতে পারেনা।বৈশাখকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জীবজন্তু ও প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী করে তথাকথিত বৈশাখী প্রেমিকরা নিজেদের মুখোশে বানর, হনুমান, বাঘ, ভাল্লুক ইত্যাদি বেশে সাজে এবং এগুলো নিয়েই আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠে।অথচ ইসলামে জীবজন্তু ও প্রাণীর প্রতিকৃতি বা ছবি তৈরী করাকে কঠোরভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।শোভাযাত্রায় যেসব প্রাণীর মুখোশ ও প্রতিকৃতি তৈরী করা হয় তারও আবার ব্যাখ্যা আছে হিন্দু ধর্ম মতে।হিন্দু সমাজে শ্রী কৃষ্ণের জন্মদিনে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। তারা তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে পেঁচা,রামের বাহন হিসেবে হনুমান, দুর্গার বাহন হিসেবে সিংহের মুখোশ ও দেবতার প্রতীক হিসেবে সূর্য এবং অন্যান্য জীব-জন্তুর মুখোশ পরে।অনেকেই বৈশাখকে সার্বজনীন উৎসব বলেন, কিন্তু দেখা যায় এতে হিন্দু ধর্মীয় রীতি-নীতিই প্রাধান্য।এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত,একটি হাদিস আছে রাসূল (সা) বলেন “নিশ্চয়ই কঠিন শাস্তি ভোগ করবে ক্বিয়ামতের দিন জীবজন্তু, প্রাণীর প্রতিকৃতি তৈরী ও ছবি অঙ্কনকারীরা” (সহীহ বুখারী ৫৯৫৪)।

অপর এক হাদিসে আছে হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেছেন ‘যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোন প্রাণীর ছবি নির্মাণ করে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হবে ঐ ছবির মধ্যে রূহ দান করার জন্য। কিন্তু সে রূহ দান করতে পারবে না (সহীহ বুখারী ৫৯৬৩)

অতএব, মানুষ হল সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, মানুষ হয়ে অন্য প্রাণীর মুখোশ পরা বা তাদের অনূরুপ করা মূর্খতার শামিল।পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা বিজাতীয় সাংস্কৃতিতে মেতে উঠা মানে বিজাতীয় সাংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়া।এ প্রসঙ্গে রাসূল (সা:) বলেন ‘যে ব্যক্তি কোন
সম্প্রদায়ের সাথে সাদৃশ্য গ্রহণ করে
সে তাদের দলভুক্ত’ (আবু দাউদ ৪০৩১)
তাই একজন মুসলমানের প্রত্যেকটি কাজ ভালভাবে জেনে-বুঝে করায় কর্তব্য। আমরা বাঙ্গালি কথাটা যেমন সত্য, তেমনি আমরা মুসলমান এটা আরও বড় সত্য তাই আমাদের সাংস্কৃতি চর্চাও হবে ধর্মের ভিত্তিতেই।পুঁজিবাদী সাংস্কৃতির আগ্রাসনে আমাদের নিজস্ব বাঙ্গালি সুস্থ সাংস্কৃতির চিত্র আজ অনেকাংশেই হারাতে বসেছি।সাংস্কৃতি থেকে ধর্মকে আলাদা করে অশ্লীলতা, নগ্নতায় দেশকে ভরপুর করে ও নারী মর্যাদার অবমাননা করে বাঙ্গালি জাতিকে বিপন্ন করে তুলছে।সংস্কৃতি হল প্রবাহমান নদীর স্রোতের ন্যায়।তাই স্রোতে গা ভাসানো এ বাঙ্গালি সাংস্কৃতিকে রক্ষা করতে আজ আমাদেরই হাল ধরতে হবে শক্ত হাতে। এই দিনে আমাদের উচিত নতুন চিন্তা, চেতনায় উজ্জিবিত হয়ে নতুন বৎসরে কিভাবে দেশ ও জাতির কল্যান বয়ে আনা যায়, হারানো সেই বাঙ্গালি সাংস্কৃতিকে কিভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই প্রচেষ্টায় থাকা।গত বছরের চেয়ে নতুন বছরে কিভাবে সত্য,সুন্দর, শান্তিপূর্ন নির্মল পৃথিবী গড়া যায় সেই প্রত্যাশায় লিপ্ত হওয়া।

তরুণ আলেম ও খতিব

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
কারিগরি সহযোগিতায়: Ashraf Ali Sohan
www.ashrafalisohan.com