পাকুন্দিয়ার হারানো সে মহিলার সন্ধান মিলেছে ; তাকে দিয়ে ভিক্ষা করানোর অভিযোগ

ঢাকার বৃদ্ধাশ্রমে থাকা ফুলবানুকে নিয়ে “পাকুন্দিয়া প্রতিদিন” সহ বিভিন্ন প্রত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর পরিচয় মিলেছে তার। বয়সের ভারে ঠিকমতো কথা বলতে না পারা ওই বৃদ্ধার বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ষাটকাহন গ্রামে (ঢুলিবাড়ি)৷ স্বামীর নাম মৃত কমর উদ্দিন। ৪ ছেলের মধ্যে ২ ছেলে জীবিত এবং ১ মেয়ে রয়েছেন । ফুলবানু বেগম দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের কাছে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় থাকেন।

গত শুক্রবার এ সংবাদ (ভিডিওসহ) পাকুন্দিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে গ্রুপে সংবাদটি ভাইরাল হলে নজরে আসে ফুলবানুর ৩য় ছেলে পুলেরঘাট বাজারের ব্যবসায়ী বাদল মিয়া এবং কুমিল্লায় স্ত্রীসহ বসবাস করা ৪র্থ ছেলে বাবুল মিয়ার। এ দিকে খবর পেয়ে শনিবার রাতে মেয়ে কল্পনা বেগমও তড়িঘড়ি করে হাজির হয় মিরপুরের বৃদ্ধাশ্রম চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে।

ওইদিন রাতে ছেলে বাদল মিয়া তার মা ফুলবানুকে বোন কল্পনার কাছে দিতে অপারগতা জানায়।
ঘন্টাখানেক পর বাদল এবং বাবুল মিয়ার স্ত্রী দুইজনই চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ার কর্তৃপক্ষকে জানায় বৃদ্ধা ফুলবানুকে মেয়ে কল্পনার কাছেই হস্তান্তরের জন্য বলেন এবং তারা এসে নিতে পারবেনা বলে জানিয়ে দেয়।

এ দিকে অভিযোগ ছিলো মেয়ে কল্পনা বেগম তারা বৃদ্ধা মা ফুলবানুকে দিয়ে ঢাকার ওয়ারি এলাকায় ভিক্ষা বৃত্তি করায়। এমন অভিযোগের ব্যাপারে তিনি মাকে দিয়ে আর ভিক্ষাবৃত্তি করাবেননা বলেও প্রতিজ্ঞা করেছেন।

প্রসঙ্গতঃ শুক্রবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে রাত ১১ টার দিকে রাস্তায় পড়ে থাকা অবস্থায় ফুলবানুকে উদ্ধার করেছিলো মিরপুরের বৃদ্ধাশ্রম চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের সদস্যরা।

চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মিল্টন সমাদ্দার বার্তা বাজারকে জানিয়েছিলেন, রাত ১১ টার দিকে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে একজনের মাধ্যমে জানতে পারেন ফুলবানু রাস্তায় পড়ে আছে এবং কান্নাকাটি করছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বৃদ্ধাশ্রমে আনলে ওনার কাছ থেকে কিছু টাকার মতোও পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে মহিলার কোনো স্বজন তাকে দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করাচ্ছে। প্রতিদিন সকালে ওয়ারি এলাকায় বসিয়ে রেখে যায়, আবার সন্ধ্যায় ওনাকে নিয়ে যায়।

মিরপুরের দক্ষিণ পাইক পাড়ায় অবস্থিত এ বৃদ্ধাশ্রম চাইল্ড এন্ড ওল্ড এইজ কেয়ারে ১০৭ জন বৃদ্ধ মা বাবা এবং ১২ জন শিশু আছে আছেন যারা পরিবার থেকে একেবারেই বিতারিত। তাদের নিয়েই মিল্টন সমাদ্দারের একটি পরিবার।

pakundia pratidin

Executive Editor - নির্বাহী সম্পাদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *