রবিবার, ১৬ মে ২০২১, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

দেখা হলোনা প্রিয় মানুষটিকে

সুলতান আফজাল আইয়ূবী
  • Update Time : রবিবার, ২ মে, ২০২১
  • ২৫ Time View

২০০৭ সাল তখন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। বাংলা
মোটামুটি পড়তে পারি। রাস্তায় পরে থাকা পত্রিকার অংশ বিশেষ,দেয়ালে সাটানো বিভিন্নসভা সেমিনারের পোষ্টার খুব সখ করেই পড়ি। কেমন যেন একটা অজানাকে জানার আগ্রহ মাথায় চেপে বসেছিলো।আগ্রহের উৎপত্তিস্থল কোথায় তা মনে নেই। আমার ফুফাত ভাই ও উস্তাদ, কিশোরগঞ্জের নূর হুসাইনী আলিম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাও: আ: মান্নান বিন তাহের , তার বাসায় দেখতাম রুমে সুন্দর করে সাজানো বিভিন্ন বই ও ম্যাগাজিন। লুফে নিলাম সুযোগটিকে। মনকাড়া প্রচ্ছদে,হৃদয় জুড়ানো নামে সহজেই কাছে টেনেছিল মাসিক মদিনা। তখন পত্রিকা বা ম্যাগাজিন কি বুঝতামনা, ভাল লাগতো পড়তে, তাই ভাল বই মনে করে পড়তাম। কুড়ানো মানিক ও প্রশ্নোত্তর বিভাগটি খুবই মনোযোগের সাথে পড়তাম।

২০১০ আমি হিফজ মাদ্রাসায় পড়ি,প্রায় শেষ পর্যায়ে।হিফজ মাদ্রাসায় বাহিরের বই ও কোন পত্রিকা পড়া নিষেদ তো ছিল বরং ছিল দন্ডনীয় অপরাধ। তবুও লুকিয়ে লুকিয়ে দৈনিক পত্রিকা পাঠ ছিল আমার নিত্য অভ্যাস। পরিচিত হতে লাগলাম বিভিন্ন ম্যাগাজিন, ম্যাগাজিনের সম্পাদনা পরিষদ ও লেখকের সাথে । হঠাৎ মনে হল প্রিয় মাসিক মদিনার কথা। পরের সাপ্তাহে ছুটিতে বাড়িতে গিয়ে মাসিক মদিনার প্রথম পৃষ্টা উল্টাটেই সম্পাদক মাঃ মুহিউদ্দীন খান। জীবনে প্রথম নামটির সাথে পরিচিত হলাম, কতবার নামটির উপর চুমু খেয়েছি তার হিসাব অসংরক্ষিত। কোন ভাল বই বা প্রিয় কোন ব্যাক্তির নাম বা ছবিতে চুমু খাওয়া আমার আবেগর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হকারের সাথে আলোচনা করে নিয়মিত মাসিক মদিনা পড়তে থাকি। দুই তিন দিনেই পড়ে ফেলতাম নতুন সংখ্যাটি। বাকি সময়টুকু বসে না থেকে ভাইয়ার দীর্ঘ দিনের পুড়ানো সংখ্যাগুলো পড়তে থাকি। অল্প ক’দিনেই
পড়ে ফেলি ভাইয়ার প্রায় ১৪ বৎসরের সংরক্ষিত পত্রিকা। দীর্ঘ দিনের পুরোনো হওয়ায় অনেক গুলো সংখ্যা ছিলো পুরোনো বা ইদুরে নষ্ট করে ফেলা, সেগুলো রৌদ্রে শুকিয়ে শুকিয়ে পড়েছি। সেই স্মৃতি আজও আমাকে মাসিক মদিনার প্রেমে শিহরিত করে।সাথে সাথেই পরিচিত হয়েছিলাম খান সাহেব সম্পাদিত মুসলিম জাহনের সাথেও। জীবনের খেলাঘরে শিরোনামে হুযুরের আত্মজীবনীমূলক লেখা ধারাবাহিকভাবে মুসলিম জাহানে পড়ে জানতে পারি তার জন্মস্থান আমাদের অঞ্চলেই,সেই দিন
অজনা সুখে বুক ভরে উঠেছিল। বর্তমানের প্রকাশিত বিভিন্ন উপন্যাস মুসলিম জাহানে তখন ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হওয়ায় সেগুলো পড়েছিলাম তখনই।

প্রিয় মানুষটির লেখা পড়ে তাকে এক নজর দেখার স্বাদ জাগলো মনে। সুযোগ খুঁজতে থাকি।একদিন জাতীয় এক দৈনিক পত্রিকায় হযুরের ছবিসহ একটি নিউজ চোখে পড়লো,প্রাণভরে আলোকচিত্র থেকে দেখে কিছুটা শান্তনা পেলাম। সেই পেপারের কাটিং আজও আমার কাছে সংরক্ষিত। আবেগের বশিভূত হয়ে কতবার যে ঐ ছবিতে চুমু খেয়েছি তার
হিসাব অজানা।

১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ঈসায়ী মোমেনশাহী ইত্তেফাকুল উলামার ঐতিহাসিক সিরাত মাহফিল,বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেমদের সাথে চোখে পড়লো প্রিয় হযরতের নামও,লুফে নিলাম সুযোগটিকে। যথাসময়ে মাহফিলে উপস্থিত হলাম,একে একে অনেক নতুন মুখের সাথে পরিচিত হচ্ছি। মাহফিল শেষ পর্যায়ে অথচ, হুযুর কে এখনো মঞ্চে আনা হচ্ছেনা কেন? কর্তপক্ষ একজনের কাছে প্রশ্ন করার মাধ্যমে জানতে পারি হুযুর অসুস্থতার দরুন আসবেন না। কথাটি শুনে হৃদয়ে ঝড় অনুভব করলাম।এক বুক কষ্ট নিয়েই চলে এলাম বাড়িতে। দেখা হলোনা প্রিয় মানুষটিকে।

২৫ শে জুন ২০১৬ ঈসায়ী, ১৯ শে রমজান
ইত:মধ্যে সারাদেশে খবর পৌঁছে গেছে
হুযুর খুব অসুস্থ, বিভিন্ন মাদ্রাসায় হুজুরের সুস্থতার  দোআ হতে থাকে। সন্ধার পূর্বক্ষনে ঢাকা হতে বিশিষ্ট কবি ও লেখক মাহমুদুল হক জালিশ ভাই প্রথম জানালেন,আর আলো ছড়াবেননা মদিনার প্রেমিক।মাও: মুহিউদ্দিন খান সাহেব হুযুর আর নেই, শুনামাত্রই কলিজায় ধব করে জ্বলে উঠল প্রিয় হারানোর বিরহে । অদেখা প্রিয়কে হারানোর বেদনায় জর্জরিত হয়ে উঠল হৃদয়। কোনভাবেই মেনে নিতে পারছিলাম না। রাত্রে তারাবীর সালাতের পর মুসুল্লিদের নিয়ে দোআ করলাম,তাদের মাঝেও প্রিয় ব্যাক্তিত্বকে হারানোর ব্যাথায় হৃদয়ভাঙ্গার ঝড় শুনতে পেলাম। হে আল্লাহ জীবিতবস্থায় তোমার মদিনার প্রেমিকের সাক্ষাৎ পেলামনা এতে কষ্ট নেই, কিন্তু হে প্রভু পরকালে জান্নাতুল ফিরদাউসে উভয়কে সাক্ষাৎ করিও,আমিন।

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
পাকুন্দিয়া প্রতিদিন
nobosur15@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
কারিগরি সহযোগিতায়: Ashraf Ali Sohan
www.ashrafalisohan.com