রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
পাকুন্দিয়া প্রতিদিন আরও সমৃদ্ধ ও পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠবে আগামী দিনগুলোতে সেসময়ে ইন্টারনেট এতটা গতিশীল ছিল না,কিন্তু পাকুন্দিয়া প্রতিদিন এর খবর গুলোর জনপ্রিয়তা ছিল ৪ ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে সাকিবকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে ; বাড়তে পারে বৃষ্টিপাত জুয়া,ও মাদক নির্মূলে মসজিদে পাকুন্দিয়া থানা ওসির প্রচারনা স্বতন্ত্র কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণেই পত্রিকাটি পাকুন্দিয়ার মানুষের কাছে জনপ্রিয় রাগে উইকেট ভেঙে ফেলেন সাকিব ; অবশেষে চাইলেন ক্ষমা আমি যে কয়টি অনলাইন পত্রিকা পড়ি তাদের মধ্য পাকুন্দিয়া প্রতিদিন অন্যতম করোনায় দেশে ২৪ ঘণ্টায় ৪৩ জনের মৃত্যু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ

ঈদের আনন্দ হোক ভাগাভাগি

সুলতান আফজাল আইয়ূবী
  • Update Time : শনিবার, ১৫ মে, ২০২১
  • ৫২ Time View

সুলতান আফজাল আইয়ূবী

ঈদ মুসলিম উম্মার এক আনন্দের দিন। মহান স্রষ্টার কাছ থেকে পাওয়া মুমিনের এক সংর্বধনার দিন।সাম্য মৈত্রীর এক অপূর্ব নিদর্শন। ধনী-গরীব,ছোট-বড় সকলের হৃদয়ে বয়ে যায় আনন্দের স্রোতধারা।উৎসবে উদ্ভাসিত হয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। সর্বত্র ধ্বনিত হয়”ঈদ মোবারক”। বিভিন্ন রেডিও ও টিভি চ্যানেল থেকে প্রচারিত হয় কাজী নজরুল ইসলামের রচিত সেই অমর সঙ্গীত ও মন রমজানের ঔ রোযার শেষে এলো খুশির ঈদ।সে যে কি এক অপরূপ মহা আনন্দের উৎসব তা লিখে বুঝানো সম্ভব নয়;কেবল উপলদ্ধির বিষয়। মুসলিম উম্মার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা দুটি ঈদ উৎসব দিয়েছেন একটি হল ঈদুল ফিতর তথা আঞ্চলিক ভাষায় রোযা ঈদ। অপরটি হল ইদুল আযহা যাকে আমরা আঞ্চলিক ভাষায় কুরবানী বা বরকা ঈদ বলে থাকি। ঈদুল আযহা বা কুরবানী হল ত্যাগের এক মহান শিক্ষা।কুরবানী শব্দটি আরবী,যা কুরব ধাতু থেকে এসেছে। অর্থ হল নিকট বা নৈকট্য। পরিভাষায় আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের আশায় যে হালাল পশু আল্লাহর নামে জবেহ করা হয় তাই হল কুরবানী। যদিও প্রতিকী পশু কুরবানী করা হয় কিন্তু এর মাধ্যমে একজন ব্যাক্তি তার অন্তরের সমস্ত রোগ কুরবানী করে পূত-পবিত্র হয়ে মহান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করে। কুরবানী মানবতার অধিকার রক্ষায়,ধনী-গরীব,সাদা-কালো সকল পার্থক্য দূর করে বিশ্ব মুসলিমের জন্য এক শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি করে।।ঈদ শব্দটি যদিও আরবী তবুও এই শব্দটি পরিচিতি লাভ করেছে সমগ্র বিশ্বের দল,মত,বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মাঝে।ঈদ শব্দটির শব্দমূল হচ্ছে”আউদুন”যার অর্থ ফিরে ফিরে আসা,পূনরানিষ্ঠিত ইত্যাদি। কিন্তু সকলের কাছে ঈদ অর্থের পরিচিতি লাভ করেছে খুশি অর্থে। কেননা ঈদের মাঠে মহান আল্লাহ তা’আলা মুমিনের সকল গুনাহসমুহ মাফ করে নিস্পাপ করে দেন,এর চেয়ে বড় খুশি আর কি হতে পারে?সর্বপ্রথম ঈদ পালিত হয় হিজরী সনের দ্বিতীয় বৎসরে ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধের বিজয় লাভের ১৩ দিন পর পহেলা শাওয়াল শুক্রবারে।এরপর থেকে এই তারিখে ধরাবাহিক ভাবে ঈদ পালিত হচ্ছে।ঈদের এই আনন্দ শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়;এটি একটি সার্বজনীন উৎসব।এর আবেশ ছড়িয়ে পরে অন্য ধর্মাবলম্বীদের মাঝেও।অনেকেই পহেলা বৈশাখকে সার্বজনীন উৎসব বলে থাকেন।তবে পহেলা বৈশাখের তুলনায় ঈদ ব্যাপকভাবে সাড়া জাগাতে সম্ভব। একবার ১৪ ই এপ্রিল তথা পহেলা বৈশাখ আর ঈদ একই দিনে উদযাপিত হয়েছিল,তখন দেখা গিয়েছিলো মানুষ সাগ্রহে ঈদ উৎসব পালন করেছিল।এবংসকালে বের হয়নি মঙ্গল শোভাযাত্রাও। এটাই স্বাভাবিক, কেননা, ঈদ নিয়ে আসে সাম্য মৈত্রীর এক অপূর্ব বার্তা। ঈদের শিক্ষা হল ধনীরা গরীবদেরকে সাথে নিয়ে ঈদ উৎসব পালন করবে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ও সমাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দীর্ঘ এক সাপ্তাহ ব্যাপী আয়োজন করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। ঈদে জাতীয় ভাবে আমরা যে মিলনমেলা উপলদ্ধি করি;অন্য কোন উৎসবে আমরা তা দেখতে পাইনা।তাইতো বলি ঈদ হলো সার্বজনীন উৎসব।ঈদ আমাদের আত্মার প্রশান্তির উৎসব। ঈদ মুসলিম উম্মার শ্রেষ্ট উৎসব। ঈদ হলো আমাদের জাতীয় উৎসব।ঈদের আনন্দে সবচেয়ে বেশী আন্দোলিত হয় শিশু কিশোররা। নতুন জামা কাপড় ও বাহারী খাবারের ঘ্রানে মাতোয়ারা হয় তাদের দেহ মন।ঈদের চাঁদ দেখার জন্য আমরা একত্রিত হতাম মাঠে।কে সবার আগে চাঁদ দেখতে পারে সেই প্রত্যাশায় থাকতাম।অতঃপর সারাগ্রামে আমরা ছোটরা আনন্দ মিছিল করতাম,কোলাহুল করে সবাইকে জানিয়ে দিতাম চান উঠছেরে!চান উঠছেরে!! ইত্যাদি আর শ্লোগান তুলতাম:-
“বাজাও জোরে,বাজাও বীন
রাইত পোহালেই ঈদের দিন”
তৎকালিন আমরা ছোট ছেলে-মেয়েরা কাদামাটি দিয়ে মিছেমিছি পিঠা বানাতাম এবং সেই পিঠা যত্ন করে রেখে দিতাম।ঈদের দিন ছোটরা একে অপরকে দাওয়াত দিয়ে মিছেমিছে এসব পিঠা দ্বারা আপ্যায়ন করতাম।সময়ের আর্বতে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের শৈশবের সেই উৎসবগুলো। এখন শিশুরা চাঁদ উঠার সংবাদ পায় বিভিন্ন মিডিয়াও ইন্টানেটের মাধ্যমে।আনন্দ উৎসব উপভোগ করে মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও পার্কে বেড়িয়ে। সময়ের আর্বতে ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গরীব অসহায় ও শ্রমজীবি মানুষগুলো।অনেকেই এখন ঈদের শিক্ষা ভুলে গিয়ে ভুলে গিয়েছি প্রতিবেশী আসহায় মানুষদের।অসহায় মানুষদের ব্যাথায় ব্যথিত হয়ে সমকালীন অন্যতম কবি জগলুল হায়দার রচনা করেছেন।

চাঁদটা যদি ব্যাংক হতো আর
জোৎস্না হতো টাকা,
ঈদটা হতো বস্তি জুরে
স্বপ্ন ছবি আঁকা।

দিগন্তটা দোকান হলে
বাতাস সেমাই আটা,
ঈদ কি তখন গরীব লোকের
হতো গলার কাঁটা ?

আমরা একটু চেষ্টা করলেই নতুন জামা ও সেমাই চিনি তুলে দিতে পারি পার্শ্ববর্তী অসহায় মানুষদের হাতে।আমাদের সহযোগীতায় হয়তো একটু হাসির ঝিলিক ফুটে উঠবে তাদের ঠোঁটে।সবাই মিলে যদি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারি অসহায় মানুষদের দিকে।তবেইতো পূর্নাঙ্গ হবে আমাদের ঈদ উৎসব।ঈদের শিক্ষা হবে পূর্ণ। ঈদের আনন্দে সকলেই উদ্ভাসিত হবো। তবেই আমাদের পথচলা হবে সত্য,সুন্দর ও স্বপ্নিল।

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
পাকুন্দিয়া প্রতিদিন
nobosur15@gmail.com

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০১৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | এই ওয়েবসাইটের কোনো কনটেন্ট অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি
কারিগরি সহযোগিতায়: Ashraf Ali Sohan
www.ashrafalisohan.com