ঢাকাThursday , 19 August 2021
  • অন্যান্য
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইটি বিশ্ব
  4. আজকের পত্রিকা
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আবহাওয়া সংবাদ
  7. ইউনিয়ন নির্বাচন
  8. ইতিহাস
  9. ইসলাম ও জীবন
  10. ঐতিহ্য
  11. কবিতা
  12. করোনা
  13. কৃতি সন্তান
  14. কৃষি সংবাদ
  15. খেলা
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমার ছোটবেলা ও কেরোসিনের কুপি বাতি

Link Copied!

মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক

আমার ছোট্ট বেলা,বলছিলাম আশির দশকের কথা। বিকালে খেলাধূলা বিশেষ করে জাম্বুরার বা খ্যারের বল (ধানের খড় দিয়ে বানানো) দিয়ে পতিত জমিতে ফুটবল খেলা,কোনদিন দাড়িয়াবান্ধা বা কাবাডি খেলা শেষ করে সন্ধার আগেই বাড়িতে ফিরতাম,বাড়ি এসে মাগরিবের আজান দেওয়ার আগেই কেরোসিনের তেলের কুপি বাতি বা হারিকেন জ্বালিয়ে পড়ার টেবিলে পড়তে বসতাম,এটিই ছিলো আমাদের সময়ে পড়ালেখা শুরুর সঠিক সময়,সন্ধায় আজান দেওয়ার সাথে সাথে কুপি বাতি জ্বালানো বাধ্যতামূলক। রাতে ৮/৯ টায় পর্যন্ত পড়ালেখা করে ঘুমিয়ে যেতাম, সকালে মানে ভোরে ঘুম থেকে উঠে আবার পড়া বা হাতে লেখা লিখে প্রস্তুতি নিতাম স্কুলে যাওয়ার। কেহ হাফপ্যান্ট, কেহ ছোটো পলিস্টার লুঙ্গি পড়ে খালি পায়ে স্কুলে যেতাম,কয়েকটা ক্লাশ হওয়ার পর অপেক্ষায় থাকতাম কখন বিরতি বা টিফিন আওয়ার হবে?

সবাই হইচই করে চরকাওনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন হাই স্কুল মাঠে ফুটবল খেলায় মেতেছি,মাঝে ২/১ টাকার বিস্কিট বা তখনকার সময়ে মায়া রুটি খেতাম,টিউবওয়েল চাপ দিয়ে টিউবওয়েল মুখে মুখ লাগিয়ে প্রচুর পরিমাণে পান পান করে দৌড়ে ক্লাশে। আবার ক্লাশ হতো কয়েকটা, স্কুলের ক্লাশ শেষে বিদায় ঘন্টা বাজলেই হইচই করে দিতাম এক দৌড়, কমপক্ষে ২০০/৩০০ গজ দৌড়ে গিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাড়িতে চলে আসতাম,বাড়িতে যা কিছুই খাবার থাকতো, বিশেষ করে নরসুন্দা নদের ছোট ছোট মাছ আর নিজেদের ক্ষেতের শাকসবজি দিয়ে তরকারী ভাত খেয়ে পাঁয়তারা করতাম কখন খেলা হবে?পাড়ার সবাই মিলেমিশে খেলা আর খেলা,কোনদিন ফুটবল বা কাবাডি খেলে ব্যথা পেলে বাড়িতে গোপন রাখতাম,কারন মা বাবা জানলে বকাঝকা করবে এবং পরের দিন যদি খেলতে না দেয়?

তাই গোপনে গোপনে সরিষার তেল মালিশ বা পাটের দড়ি পুড়িয়ে ছ্যাকা দিতাম,কখনো কখনো গরম পানির ছ্যাক।সন্ধা হলেই আবার বাড়িতে ফিরে পড়ার টেবিলে,হাইস্কুল জীবনে কোদালিয়া এস আই উচ্চ বিদ্যালয়ে একই নিয়মে চলতো,কলেজ জীবনে কিশোরগঞ্জ শহরে মেসে থাকার কারনে নিয়মের সামান্য কিছু পরিবর্তন হলেও, এই ছিলো ছোট্ট বেলার পড়ালেখার সময়ানুবর্তিতা,চালচলন।
কিন্তু সময় পাল্টে গেছে! ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, টিভি দেখা,মোবাইলে গেইম বা Facebook চালানো এখন সময়ের দাবী। ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা এখন আর সন্ধায় পড়ার টেবিলে পড়তে বসে না,বাড়ি সামনে রাস্তায় অধিক রাত পর্যন্ত মোবাইলে গেইম বা ফেইসবুকে দলবেঁধে সময় কাটায়,ছোটবড় কাউকে দেখার সময় নেই,বড়রাও না দেখার ভান করে পাশকাটিয়ে চলে যায়!! মা বাবারও তেমন কোন চিন্তা নেই, সব মা বাবা এইরকম না,তবে বেশিরভাগ মা বাবাই এখন এটি মেনে নিয়েছেন,ছেলেদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো ফ্যাশনে দাড়িয়েছে,দিনের পর দিন মোটরসাইকেল এক্সিডেন্টে পঙ্গু এমনকি মৃত্যু মুখে পতিত হচ্ছে। আমাদের চরটেকী গ্রামে বেশ কয়েকটি ব্রিজ-কালভার্টে সন্ধা থেকে রাত ১০/১১ টা পর্যন্ত স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের জম্পেশ করে আড্ডা আর হইচই করতে দেখা যায়,বলার কেহ নেই! হয়তো বলতে পরেনা,পারবে না। এইভাবে কিছু ছেলেরা হচ্ছে নেশাখোর, চোর আর অর্কমা। সমাজে এই অবস্থা চলতে থাকলে একটা সময় সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ থাকবে না,এখনি যদি অভিভাবক ও শিক্ষিত সচেতন নাগরিকরা দৃষ্টি না দেন তাহলে গ্রামের দশের বা দেশের সভ্যসমাজ গড়তে অসুবিধা হবে,বিশৃঙ্খলার বেড়ে যাবে।

একটু চোখ তোলে ধরুন, দেখুন বর্তমানে ছেলেদের তুলনায় আমাদের মেয়েরা স্কুল কলেজে ভালো ফলাফল করছে,উচ্চশিক্ষায় ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানে মেধাতালিকা স্থান করে নিচ্ছে,বর্তমানে মেয়েরা ইউএনও,ডিসি এসপি সহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উচ্চপদে কাজ করছে,আর ছেলেরা পিছিয়ে যাচ্ছে এর কারন কিন্তু সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডাবাজি আর নেশার জগতের ফল।মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে এটি খুবই ভালো সংবাদ, তবে ছেলেরা শারীরিক মানসিক ভাবে অনেকটা মেয়েদের চেয়ে শক্তভক্ত। ছেলেরা যদি দিনে দিনে অর্কমা, নেশায় আসক্ত হয়ে যায়,সমাজে বিশৃঙ্খলা বেড়ে যাবে,মেয়েদের সাথে ছেলেরাও তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাবে এটিই আমাদের গ্রামের মানুষের চাওয়া। আমাদের সময়ে পড়ালেখা মানে বিএ পাশ,কিছু কিছু পরিবারের সন্তানেরা হয়তো বাহিরে গিয়ে বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উচ্চ শিক্ষা নিতো পারিবারিক চিন্তা চেতনার কারনে।

এখন আর সেইদিন নেই,প্রতিযোগিতার বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশের দশের এমন কি শহরের সকলের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে,তাই সকলকে তরুন সমাজকে আলোকিত পথে ধাবিত করতে সকলের ঐক্য প্রচেষ্টা ও সচেতনতা দরকার।

মোঃ শফিকুল ইসলাম শফিক
সভাপতি,
চরটেকী উচ্চ বিদ্যালয়,পাকুন্দিয়া কিশোরগঞ্জ।