আজকের পত্রিকা চিত্র বিচিত্র বিশেষ প্রতিবেদন সোশ্যাল মিডিয়া

প্রবাসের বাস্তবতার গল্প || জুয়েল মাহমুদ

আচ্ছা লিবিয়ায় নিহত ২৬ জনের জন্য কি আমাদের প্রবাসীদের কোন দায় আছে???
আমি মনে করি অবশ্যই আমাদের সকল প্রবাসীর দায় আছে।

কিছু দিন আগে একটি বিবিসির প্রতিবেদন দেখলাম।কুমিল্লার একজন আমেরিকান প্রবাসী একটি কফি শপে কাজ করত।সেখানে কাজ করেই মাস কয়েক আগে স্ত্রী – সন্তানদের আমেরিকায় নিয়ে গেছে। আমেরিকার এই করোনা পরিস্থিতিতেও তাকে ডিউটি করতে হয়েছিল।দুর্ভাগ্য বশত লোকটি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরন করলেন।পুরো পরিবার টি অসহায় হয়ে পড়েছে সেখানে।লাশ দেশে আনা তো দূরে থাক স্ত্রী সন্তানরা দেশে আসার মত টাকা পয়সা তাদের নেই। লোকটির কোন এক বন্ধুর সহযোগিতায় সেখানেই লাশটি দাপন করা হয়েছে।

পরিবারকে যখন আমেরিকায় নিয়ে গেছে তখন স্বাভাবিক ভাবেই আমরা ভাবতে পারি লোকটি আমেরিকায় নিশ্চয়ই ভাল কিছু করে।নিশ্চয় অনেক বড় চাকরি করে।আমরা বাংলাদেশে বসে এটা ভাবা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
কিন্তু লোকটি কাজ করত একটা সাধারণ কফি শপে।মৃত্যুর পর তার লাশটি দেশে আনার জন্য টাকা ছিল না।শুধু এই লোকটি নয় ইউরোপ আমেরিকায় অধিকাংশ প্রবাসীরা বিভিন্ন কফি শপ বা রেস্টুরেন্টে চাকরি করে,আবার কেউ কেউ ট্যাক্সি চালায়।

যারা ইউরোপ দেশ গুলোতে বসবাস করেন আপনারা কি সত্যিই খুব সুখি???
শুধু ইউরোপ কেন আমরা প্রবাসীরা যে সকল দেশ গুলোতে আছি আমরা কতটা ভাল আছি?
একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে প্রবাসীরা বিভিন্ন মানসিক, শারীরিক সমস্যায় ভোগে।এখানে নিজে সংগ্রাম করে বেঁচে থাকার লড়াই আর পরিবারকে সুখে রাখা সহ লম্বা সময় নানা সমস্যার মাঝ দিয়ে যেতে হয়, নানা মানসিক সমস্যায় ভোগতে হয়।

যারা ইউরোপ আমেরিকা থাকেন প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে বসে কেএফসি সামনে নিয়ে,পার্কে ঘুরতে গিয়ে কিংবা সুন্দর একটা ডয়িং রুমে বসে আড্ডার ছবি ফেইসবুকে আপলোড দেন আপনারা সেখানে কি সত্যিই এতোটা সুখী ? আদৌ কি এত আনন্দের জীবন কাটান আপনারা?

নাকি সপ্তাহে ছয় দিন কেউ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে টেবিল পরিষ্কার করে, কেউ লেবারের হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে,কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের বকা-ঝকা খেয়ে,বস-সুপারভাইজারদের নানান রকম কটু কথা শুনে, কবে দেশে যাবো, বন্ধু বান্ধবের সাথে আড্ডা দিবো সেই কথা ভেবে দিন পার করেন?
তাহলে কেন মিথ্যে বিদেশের সুখের ছবিটা তুলে ধরেন?
আপনাদের এই সুখের ছবি দেখে দেশে থাকা মানুষ জন ভাবে আহ আমেরিকা ইউরোপ যেতে পারলেই বুঝি রঙিন জীবন।কত সুখ ইউরোপে!!

আমরা কখনো নিজেদের বাস্তবতা তাদের কাছে তুলে ধরি না।আমরা কেউ হয়ত লেবারের কাজ করছি,কেউ রেস্টুরেন্টে তরকারি কুটছি,অনেকে আরো পরিশ্রমের কাজ করছে, আমরা কি তাদের কখনও বুঝিয়েছি প্রবাসের জীবন কতটা কঠিন? কিংবা আপনার ইউরোপ আমেরিকায় প্রবেশ করতে কতটা ভয়াবহতার মাঝ দিয়ে যেতে হয়েছে সেই গল্প শুনিয়েছেন কখনো??

তাহলে কেন সপ্তাহের একটা দিনের ছবি গুলো ফেইসবুকে আপলোড দিয়ে তাদের ইউরোপ আমেরিকার রঙিন জীবনের স্বপ্ন দেখান?তারা তো এই রঙিন জীবনের খোঁজেই ঘর থেকে বের হয় আর ফিরে লাশ হয়ে।

আমরা প্রবাসে বসে যে মিথ্যে সুখে থাকার ছবি তুলে ধরি তা অধিকাংশই লোক দেখানো সুখী জীবন। বাস্তবতা বড়ই ভয়ংকর।

মালয়েশিয়া প্রবাসী

pakundia pratidin
Executive Editor - নির্বাহী সম্পাদক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *