শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ০১:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পাকুন্দিয়ায় ত্রিমুখী সংঘর্ষঃ বিদেশে থেকেও মামলার আসামি আতিকুর ও রাসেল !
Update : সোমবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৯:৩১ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিএনপি, পুলিশ ও আওয়ামী লীগের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় তিন পক্ষের প্রায় দুইশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়। ওই ঘটনায় শনিবার রাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে পাকুন্দিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ১৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত দেড় হাজার জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়। মামলায় ইতোমধ্যে ২৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর হয়েছে।

এই দুই মামলায় অন্যদের সঙ্গে আতিকুর রহমান লিটু (৪৫) ও মো. রাসেল (৩৫) নামের দুই প্রবাসীকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় সৌদি আরব প্রবাসী আতিকুর রহমান লিটুর নাম রয়েছে ২৭ নাম্বারে। দুবাই প্রবাসী মো. রাসেলের নাম রয়েছে ১০০ নাম্বারে।

আতিকুর রহমান লিটু ২০২১ সালে ২ আগস্ট ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফিরে যায় এবং মো. রাসেল গত ২ মাস হলো দুবাই প্রবাসী। তবে আতিকুর রহমান লিটু উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ও রাসেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন বলে জানা গেছে। রাসেল উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন (ভিপি কামালের চাচতো ভাই।

সৌদি আরব প্রবাসী আতিকুর রহমান লিটু উপজেলা নারান্দী ইউনিয়নের ছোট আজলদী গ্রামের শাফিউদ্দিন পাঠানের ছেলে। দুবাই প্রবাসী মো. রাসেল উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের চরতেরটেকিয়া গ্রামের ওয়াহাব মিয়ার ছেলে।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন পাকুন্দিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ কামাল।

সৌদি আরব প্রবাসী আতিকুর রহমান লিটু জানান, আমি দীর্ঘ দিন ধরে সৌদি আরব আছি। আমি গত ২০২১ সালের ২ আগস্ট ছুটি শেষে সৌদি আরবে চলে গেছি। আমি এখন পর্যন্তও সৌদি আরবে আছি। কিভাবে এই মামলায় আমার নাম এসেছে বুঝতে পারলাম না। আমি কি সৌদি আরবে থেকে পুলিশের সাথে মারামারি করেছি? হয়তো বিএনপি করি বলেই প্রবাসে থাকা সত্যেও আমার নামে মামলা হয়েছে।

দুবাই প্রবাসী রাসেল বলেন, আমি দুই মাস হলো দুবাইয়ে চলে এসেছি। পুলিশের সাথে মারামারি হলো পাকুন্দিয়ায় আমি দুবাইয়ে থেকে আসামি। বিষয়টি হাস্যকর। আমার অপরাধ আমি বিএনপির সমর্থক তাই দুবাইয়ে বসেই পুলিশের সাথে মারামারি করেছি! বাড়িতে গিয়ে পুলিশ আমাকে না পেয়ে আমার বড় ভাই রহমতুল্লাহ রুবেলকে ধরে নিয়ে গেছে।

ঘটনার দিন আতিকুর রহমান লিটু ও রাসেল প্রবাসে অবস্থানের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মামলার বাদী পাকুন্দিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহ কামাল জানান, আমরা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ দেখে অনেককে আটক করেছি। পরে তাদের কাছ থেকে শুনে অন্যদের নাম লিখেছি। অনেক সময় এমনও হয় এত এত লোকের ভীড়ে এক দুইটা এদিক সেদিক হতে পারে। তবে এইক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত কোন ভুল হয়ে থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মামলার তদন্তকর্মকর্তা পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। মামলার তদন্ত চলছে। আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে যদি তাদের সম্পৃক্ততা নাই পাই বা যে তারা প্রবাসে আছে সেটা যদি প্রমাণিত হয় তবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাপ্র/সুআআ

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
আমাদের ফেইসবুক পেইজ