শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
“শিশুদের রোজা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ “
/ ৩৬ Time View
Update : রবিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৩, ১০:১২ পূর্বাহ্ণ

রিফাত আল হুসাইনী

প্রতিটি মুসলিমের উচিৎ ছোট থেকেই সন্তানদের ইসলামী ভাবধারায় গড়ে তোলা। ছোটতেই তাদের মন-মস্তিষ্কে ইসলামী মূল্যবোধ গেঁথে দেয়া এবং সে অনুযায়ী লালনপালন করা। অন্যথায় পরবর্তীতে তাদের মন-মস্তষ্কে ইসলামী মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং তাদেরকে দ্বীনমুখি করা কঠিন হয়ে যাবে।

সন্তানদের সিয়ামে অভ্যস্ত করতে হলে ছোট থেকেই তাদেরকে এর প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং এ ব্যাপারে উৎসাহ উদ্দীপনা দিতে হবে। সন্তানদেরকে ইবাদত ও আমলের প্রতি উদ্ধুদ্ধ করা এবং ছোট থেকেই তাদের আমলের অভ্যাস গড়ে তোলা পিতা-মাতার দায়িত্ব। এটা পিতা-মাতার জন্য সাদাকায়ে জারিয়া।

যদিও প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত শিশুর উপর শরীয়তের কোনো আমলই ফরয হয় না তবে আমলের অভ্যাস করার জন্য আগ থেকেই তাদেরকে আমলের প্রতি উৎসাহী করে তোলা ভাল। যেমন, রোযা ফরয হওয়ার পূর্বে দু’একটা করে রোযা রাখলে ফরয হওয়ার পর তাদের জন্য রোযা সহজ হয়ে যায়। নিজেদেরকে সহজেই রোযার সাথে মানিয়ে নিতে পারে। তাছাড়া রোযা রাখার দ্বারা শিশুরাও সংযমী হয়ে উঠে। নামায ও অন্যান্য নফল ইবাদতের প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠে।

দেখবেন, যে শিশুটি অন্য সময় নামায পড়ে না, সে যদি রোযা রাখে তখন সে-ও নামায পড়া শুরু করে। বাজে আড্ডায় সময় নষ্ট করে না। অযথা দুষ্টুমিতে মেতে উঠে না। এই যে সংযমীভাব এটাও রোযার বরকত। তাই বড়দের উচিত শিশুদেরকে রোযার ফযীলত শুনিয়ে তাদের রোযার প্রতি উদ্ধুদ্ধ করা। সাহরির সময় একটু কষ্ট করে হলেও তাদেরকে জাগিয়ে দেওয়া। এটা অবশ্যই তাদের প্রতি কল্যাণকামনা।

আমাদের উত্তম আদর্শ হচ্ছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের ছোট থেকেই সিয়ামের প্রশিক্ষণ দিতেন। এমনকি তাঁদের বাচ্চারা ক্ষুধার জ্বালায় কেঁদে ওঠলে সিয়াম ভাঙতে দিতেন না; বরং ক্ষুধার জ্বালা ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য তাদেরকে খেলনা দিয়ে দিতেন। বাচ্চারা খেলনা পেয়ে ক্ষুধার কথা ভুলে যেত। এভাবে মাগরিব হয়ে যেত। এভাবেই সাহাবায়ে কেরাম শিশুদেরকে রোযা রাখাতেন। আসলে নেক আমলের যে কী লাভ তা তারাই পূর্ণরূপে উপলব্ধি করেছেন। হাদীসে এসেছে-

ونصوم صبياننا، ونجعل لهم اللعبة من العهن، فإذا بكى أحدهم على الطعام أعطيناه ذاك حتى يكون عند الإفطار.

আমরা আমাদের শিশুদেরকে রোযা রাখাতাম এবং তাদের জন্য উনের খেলনা বানিয়ে দিতাম। যখন তারা খাদ্যের জন্য কাঁদত তাদের সেই খেলনা দিতাম। এভাবে ইফতারের সময় হয়ে যেত।
-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৯৬০

এটা ছিল ইবাদাতের প্রতি সাহাবায়ে কেরামের আগ্রহ ও সন্তানদের প্রতি কল্যাণকামনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা চাইতেন সন্তানরাও রমাযানের বরকত লাভ করুক। তবে রোযা রাখতে গিয়ে যেন শিশুদের অতিরিক্ত কষ্ট না হয়, সেদিকেও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
আমাদের ফেইসবুক পেইজ