Pakundia Pratidin
ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ নভেম্বর ২০২০
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইতিহাস
  3. ইসলাম ও জীবন
  4. কৃতি সন্তান
  5. জাতীয়
  6. জেলার সংবাদ
  7. তাজা খবর
  8. পাকুন্দিয়ার সংবাদ
  9. ফিচার
  10. রাজনীতি
  11. সাহিত্য ও সংস্কৃতি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বেগুন চাষে সফল পাকুন্দিয়া আনোয়ারখালীর কৃষক শহীদুল্লাহ

প্রতিবেদক
Nazmul
নভেম্বর ২৪, ২০২০ ১:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশাল বেগুন ক্ষেতে গাছে ফলেছে বেগুন। সেদিকে তাকিয়ে চাষি শহিদুল্লার মুখের হাসি বিস্তৃত হয়। শহিদুল্লাহ বললেন, ‘১৫ বছর আগে যখন বেগুন চাষ শুরু করি, তখন এমন সাফল্য আসবে ধারণা করতে পারিনি।’
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আনোয়ারখালী গ্রামের সফল সবজি চাষী মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য দৃষ্টান্ত। বর্তমানে তিনি ৭০ শতাংশ জমিতে বেগুন চাষ করে আয় করছেন বছরে কমপক্ষে পাঁচ-সাত লাখ টাকা।

সম্প্রতি আনোয়ারখালীর গ্রামের শহিদুল্লাহর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, কৃষক বাবার কাছে হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে সবজির চাষ শুরু করেছিলেন। ওই সময় শিক্ষা বা সরকারি সহযোগিতা না পাওয়ায় তেমন সফল হতে না পরিলেও হাল ছাড়েনি। ৬ বছর আগে কৃষি অফিসের সহযোগিতায় মাত্র ২০ শতক জমিতে বেগুন আবাদ করেই সাফল্য পান। সেই থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ইতিমধ্যে বেগুন বিক্রির টাকা দিয়ে কিনেছেন ফসলি জমি। নির্মাণ করেছেন বাড়িও। বর্তমানে নিজ বাড়ির কাছে এক ২০ শতাংশ জমিতে সবজির চাষ করছেন। খেতে রাসায়নিক সারের তুলনায় জৈব সার অনেক বেশি ব্যবহার করেন। এ জন্য খরচও কমে, ফলনও ভালো হয়। প্রতিদিন গড়ে তিনজন শ্রমিক কাজ করেন শহীদুল্লার খেতে। তার ছেলেরাও কৃষিকাজে সাহায্যের হাত বাড়ান।

পাকুন্দিয়া উপজেলায় এবার সবজির উৎপাদন কম হলেও দাম ভাল থাকায় কৃষকরা লাভবান হয়েছে ।

শহীদুল্লাহ বলেন, বেগুন বিক্রি ইতিমধ্যে শেষ পর্যায় এখন লাউয়ের চারা রোপন করা হয়েছে। বেগুন বিক্রি করে তাঁর ভালো লাভও হচ্ছে। প্রতিবছর ওই জমির পেছনে গড়ে তাঁর ব্যয় হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকার মতো। আর সারা বছর বেগুন বিক্রি থেকে আয় হয় প্রায় পাঁচ-সাত লাখ টাকা।

আমার এই সাফল্যের পেছনে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদেরও ভূমিকা আছে। শহিদুল্লাহ বলেন, তাঁকে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছেন পৌর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাদিরা। বর্তমানে সবজি চাষে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হলে তিনি উপজেলা কৃষি বিভাগের সহায়তা নেন। তাঁর সাফল্য দেখে ওই এলাকার অনেক চাষি বর্তমানে সবজি চাষ করছেন। অনেকেই তাঁর কাছে পরামর্শের জন্যও আসেন।

প্রতিবেশী কৃষক গোলাপ মিয়া বলেন, শহীদুল্লাহর খেতের ফসল দেখে সবজি চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মে। দুই বছর ধরে তিনি সবজি চাষ করছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাদিরা জানান, শহীদুল্লাহ একজন সফল এবং অনুকরণীয় সবজিচাষি। সবজি চাষের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে তিনি সচ্ছল হয়েছেন। তাঁকে দেখে এলাকার অনেকে সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলামিন বলেন, সবজি চাষ করেও যে মানুষ তাঁর আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন করতে পারে, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত কৃষক শহীদুল্লাহ।

error: Content is protected !!