বিশেষ প্রতিবেদন

আপনি সার্টিফিকেট দেবার কে?

জুয়েল মাহমুদ

ইসলাম নারীদের যে সম্মান দিয়েছে তা অন্যকোন ধর্মে দিয়েছে কিনা আমার জানা নেই।

আমাদের এই বঙ্গীয় জনপদে আজকাল কোন কিছু ঘটলেই আমরা ফেসবুকে কোন কিছু বুঝে না বুঝেই ঝড় তুলা সুশীল সমাজবিধ’রা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।

এইত কিছু দিন আগে কোন এক মেয়ে মটরবাইক চালিয়ে নাকি গায়ের হলুদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছে।সেটা নিয়ে আমারা কেউ কেউ বাহবা দিয়েছি আবার কেউ কেউ ছি ছি করেছি। রীতিমতো মেয়েটি সেলিব্রিটি বনে গিয়েছে।

দেশে একটা লোয়ার ক্লাস আছে যারা নারী অধিকার নিয়ে কথা বলে কিন্তু তাদের হিপোক্রেসি অত্যান্ত খারাপ।

গত দুদিন যাবত এক মা-ছেলের ক্রিকেট খেলার কয়েকটি ছবি ফেইসবুকে ঘুরছে।বরাবরের মত এবারও কি-বোর্ড এ ঝড় তোলা মানুষ জন দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে।সবাই যার যার অবস্থান থেকে যুক্তি,পরিসংখ্যান তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

কেউ কেউ বলছে ছি ছি জাত গেল, জাত গেল!এই মহিলা কি করে বোরকা পড়ে ক্রিকেট খেলতে গেল?
মেয়ে হয়ে সে এইসব করতে পারলো?

আবার কেউ কেউ বলছে হাই হাই দেশ টা কি তাহকে আফগান,পাকিস্তান হয়ে গেল?বোরকা পড়ে ক্রিকেট খেলতে হচ্ছে!

ছবিটি আমার কাছে কোন ভাবেই অস্বাভাবিক মনে
হয়নি।কিন্তু এই ছবিটিই অনেকের শরীরে আগুন ধরিয়েছে।

কিছু সস্তা জনপ্রিয় পাওয়া ভন্ড দুমুখো সেক্যুলার ও কতিপয় কিছু নারীবাদী সেলিব্রিটি এই মা ছেলেকে তুলোধুনো করছে।

তারা নানাভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে ছবিটিকে মন্তব্য করছে।এটা নাকি আফগান পাকিস্তানের সংস্কৃতি। এটা বাংলাদের সংস্কৃতি নয়।

মূলত এই সেক্যুলার’ই বাঙালি সংস্কৃতি ও সংস্কৃতিমনা মানুষের অবস্থান কে সবসময় ইসলামি পোশাকের বিপরীতে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করে আসছে।ওদের কাছে টাইট ওয়েস্টার্ন, আমেরিকান কিংবা অস্ট্রেলিয়ান স্পোর্টস ড্রেস ই হচ্ছে বাঙালিয়ানা সংস্কৃতি।

অর্থাৎ তাদের বাঙালিয়ানাই হচ্ছে আসল বাঙালিয়ানা সংস্কৃতি।
আর বোরকা পরিহিত সংস্কৃতি হচ্ছে আফগান কিংবা পাকিস্তান সংস্কৃতি।

আমি সেলুট জানায় এই মা ছেলেকে।নিজের পর্দা ঠিক রেখে ছেলেকে বিনোদনে সঙ্গ দেয়ার জন্য।এই ছবি থেকে আমাদের দেশের মায়েদের অনেক কিছু শেখার আছে।

আমাদের মায়েদের বোরকা যদি কোন আদর্শ বা সংস্কৃতির বিপরীত হয় তাহলে সেই আদর্শের চার আনা মূল্য নেই আমার কাছে।

ইসলামের একজন আদর্শ মুসলিমের সব থেকে মূল্যবান হচ্ছে অনুসরণ।
আমাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি কে পশ্চিমা সংস্কৃতি সাথে গুলিয়ে তারা নোংরা করে দিয়েছে।

আমি কি করবো না করবো সেই সার্টিফিকেট আপনার কাছে থেকে নিতে হবে কেন?
কেউ বোরকা পড়ে ক্রিকেট খেলবে না নাকি শাড়ি পড়ে ক্রিকেট খেলবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।

কোন নারী গৃহিণীর কাজ করবে কিনা বিমান চালাবে সেটা আপনি ঠিক করে দেবার কে?
সে তার ধর্মবিরোধী কাজ করে নাই, সে কোন রাষ্ট বিরোধী  কাজ করে নাই তাহলে আপনার আমার মাথা ব্যাথা কেন…?

যারা আলোচনা সমালোচনা করে এভাবে দিনের পর দিন বৈষম্য তৈরি করে যাচ্ছেন নিশ্চিত জেনে রাখুন একদিন আপনাকেও এই বৈষম্যের শিখার হতে হবে। আর সেটাই হবে প্রকৃতির বিচার।

মালোয়েশিয়া প্রবাসী

Nazmul
বার্তা সম্পাদক 01795995615
http://pakundiapratidin.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *